ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ , ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি !

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-০৩ ২২:৩০:০১
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি  গাছ বিক্রি ! বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি !
রাহাদ সুমন, বরিশাল ব্যুরো; বরিশালের বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই অবৈধভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০টি মেহেগিনি ও ৪টি নারকেল গাছ বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখানো হলেও গাছ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞদের মতে এ গাছগুলোর মূল্য আরও অনেক বেশী হবে। সোমবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরের পূর্বপাড়ে মসজিদ লাগোয়া বাগানে শ্রমিকরা মেহেগিনি ও নারকেল গাছগুলো কেটে স্বমিলে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছেন। এসময় সেখানে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারি শাওন জানান, হাসপাতালের মসজিদের দোতলার কাজ করার জন্য জাহাঙ্গির সরদার নামের এক গাছ ব্যবসায়ীর কাছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। ইউএনও ও বন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়ে গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। টেন্ডার ছাড়া গাছ বিক্রির কথা অকপটে স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফুল আজিজ বলেন টেন্ডার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যপার। তাছাড়া টেন্ডার দিলে গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হতো। এসব কারনে মসজিদ সংস্কারের জন্য টেন্ডার ছাড়া গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত আছেন বলেও তিনি জানান। গাছের ক্রেতা বানারীপাড়ার রায়েরহাটের স্বমিল মালিক জাহাঙ্গির হোসেন সরদার বলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ১০টি মেহেগিনি ও ৪টি নারকেল গাছ ক্রয় করে গত তিন দিন ধরে তা কেটে নিচ্ছেন। উপজেলা বন. কর্মকর্তা মোঃ তাহেরুল ইসলাম বলেন, তার কাছ থেকে এক বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি গাছের মূল্য নির্ধারণ করে নেওয়া হয়েছিল।তবে মূল্য নির্ধারন করা হলেও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ বিক্রির কোন সুযোগ নেই। বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বায়েজিদুর রহমান বলেন, মন্ত্রনালয়ের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়া সরকারি গাছ কাটা ও বিক্রির কোন সুযোগ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল কাটার কথা তাকে জানিয়েছিলেন। তাকে গাছ কাটা ও বিক্রির কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাছাড়া তার কর্তৃপক্ষ আমি নই, সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন,সরকারি গাছ বিক্রির সুনির্দিষ্টি নিয়ম-কানুন রয়েছে। এর ব্যতয় ঘটলে বিষয়টি অনিয়ম হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।### রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া তারিখঃ০৩-০৮-২০২৬ইং

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ